Share on WhatsApp Share on Telegram

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় লিপি ও মুদ্রার গুরুত্ব | Importance of Scripts and Coins in History Writing

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় লিপি ও মুদ্রার গুরুত্ব (Importance of Scripts and Coins in History Writing) বর্তমান। অর্থাৎ প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন লিপি ও মুদ্রা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে সাহিত্যিক উপাদানপ্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান গুলি যেমন গুরুত্বপূর্ণ অপরদিকে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে লিপি ও মুদ্রার গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় লিপি ও মুদ্রার গুরুত্ব আলোকপাত করা হল।

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় লিপি ও মুদ্রার গুরুত্ব | Importance of scripts and coins in history writing

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন লিপি ও মানুষের ব্যবহৃত মুদ্রা থেকে তৎকালীন সমাজের সামগ্রিক চিত্র সম্পর্কে অনুমান করা যায়। এখানে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় লিপি ও মুদ্রার গুরুত্ব গুলি আলোচনা করা হল –

ইতিহাসের উপাদান হিসেবে লিপির গুরুত্ব

প্রাচীন যুগের রাজা মহারাজারা সোনা, রুপা, তামা, পাথর প্রভৃতির উপর বিভিন্ন বিষয় খোদাই করে রাখতেন। এর একমাত্র উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন বিষয়কে স্মরণীয় করে রাখা। যেমন – রাজা সিংহাসনে আরোহণের সময়কাল, রাজত্ব বিস্তার, ধর্ম প্রচার প্রভৃতি।

লিপির মাধ্যমে ভারতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তবে প্রাকৃতিক কারণে সমস্ত লিপি অবিকৃত অবস্থায় না পাওয়া গেলেও তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন ঘটনা এই লিপিগুলি থেকে সহজে অনুমান করা যায়।

ভারতীয় লিপি

ভারতীয় লিপি হিসেবে অন্যতম হল সিন্ধু সভ্যতা লিপি। তবে আজও পর্যন্ত এই লিপি পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাই এই লিপি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না।

আবার মৌর্য যুগের সূচনাকালে সোহগোর তাম্রলিপি আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে বিভিন্ন লিপি গুলির মধ্যে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ লিপি হল সম্রাট অশোকের শিলালিপি ও স্তম্ভলিপি।

জেমস প্রিন্সের ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে অশোকের শিলালিপির পাঠোদ্ধার করেন। এই লিপিগুলি থেকে ভারতের মৌর্য যুগের ইতিহাস, সম্রাট অশোকের কৃতিত্ব, ধর্মনীতি ও বিভিন্ন জনকল্যাণকামী কার্যাবলীর পরিচয় পাওয়া যায়।

অশোকের পরবর্তীকালে কিছু লিপি পাওয়া যায় তা হল প্রশস্তি এবং ভূমিদান লিপি।

প্রশস্তি লিপি

প্রশস্তি লিপির মধ্যে গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ প্রশস্তির কথা পাওয়া যায়। বরিশনের লেখা এই লিপি থেকে সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের কৃতিত্ব, ভারত অভিযান এবং তার বহুমুখী প্রতিবার কথা জানা যায়।

আবার, নাসিক প্রশস্তি থেকে সাতবাহন বংশের ইতিহাস সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায়। বিশেষ করে এই লিপি থেকে গৌতমীপুত্র সাতকর্ণীর কৃতিত্ব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীর বিবরণ পাওয়া যায়।

আইহোল প্রশস্তি থেকে চালু করার দ্বিতীয় পুলকেশীর বিজয় কাহিনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।

হাতিগুম্ফা লিপি থেকে কলিঙ্গের রাজা খারবেলের ইতিহাস পাওয়া যায়। তাছাড়া রুদ্রদামনের জুনাগড় লিপি তার রাজত্ব বিস্তার থেকে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

ভূমিদান লিপি

প্রশস্তি লিপি ছাড়াও ভারতীয় রাজাদের বা জমিদারদের দ্বারা অনুদান লিপি রচিত হয়েছে। যেমন – বণ্যগুপ্তের তিপেরা ভূমিদান লিপি, দ্রোণসিংহের মৈত্রক ভূমিদান লিপি প্রভৃতি। এগুলি থেকে ভূমির পরিমাণ, ভূমি দানের উদ্দেশ্য, ভূমি বন্দোবস্ত ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

ইতিহাসের উপাদান হিসেবে মুদ্রার গুরুত্ব

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে মুদ্রার গুরুত্ব বর্তমান। ভারতে প্রাচীন যে সমস্ত মুদ্রা গুলি পাওয়া যায় সেগুলি থেকে তৎকালীন যুগের বিভিন্ন ধারণা পাওয়া যায়।

মুদ্রা হল নির্দিষ্ট ধাতু খন্ডের উপর ছাপ যুক্ত বিভিন্ন কারুকার্য যার মাধ্যমে ওজন বা তৎকালীন রাজাদের রাজত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পাওয়া যায়। আবার মুদ্রার মাধ্যমে ভারতবর্ষে বিভিন্ন সময়ে বিনিময় প্রথা প্রচলিত হয়।

ভারতবর্ষে আবিষ্কৃত বিভিন্ন মুদ্রা থেকে প্রাচীন ভারতের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। যেমন – বৈদিক যুগে অধিক প্রচলিত নিষ্ক ও মনা দুই ধরনের স্বর্ণমুদ্রার কথা জানা যায়। তবে গ্রিকদের প্রভাবে ভারতে মুদ্রা প্রচলন বিস্তার লাভ করেছিল।

মৌর্য পরবর্তী যুগে ব্যাকট্রীয় গ্রীকদের মাধ্যমে ভারতের সন তারিখ যুক্ত মুদ্রা প্রবর্তনের সূচনা হয়। হুবিষ্ক, বাশিষ্ক, কনিষ্ক প্রভৃতি একাধিক কুষাণ রাজার নাম ও রাজত্বকালের কথা সেই সময়ের প্রচলিত মুদ্রা থেকে জানা যায়।

আবার এই মুদ্রা থেকে তৎকালীন ভারতের রোম ও ভারত বাণিজ্যের প্রমাণ মেলে। গুপ্ত যুগের প্রাপ্ত মুদ্রায় একাধিক দেবদেবীর মূর্তি, রাজাদের মূর্তি ছাড়াও সমুদ্রগুপ্তের বাণী খচিত মুদ্রার সন্ধান মেলে।

তাই প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উপাদান হিসেবে মুদ্রা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন –

i) মুদ্রা থেকে তৎকালীন রাজাদের নাম, ছবি ও কৃতিত্ব সম্পর্কে জানা যায়,

ii) মুদ্রার মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্যের বিনিময় প্রথা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়,

iii) মুদ্রার মাধ্যমে বিভিন্ন দেব দেবীর মূর্তি থেকে তৎকালীন ধর্ম সম্পর্কিত তথ্য বা ধর্মীয় জীবনের তথ্য পাওয়া যায়,

iv) মুদ্রায় অঙ্কিত বাদ্যযন্ত্র, অলংকার, পোশাক প্রভৃতি থেকে তৎকালীন সময়ের সমাজ জীবনের চিত্র পাওয়া যায়।

v) মুদ্রার মাধ্যমে তৎকালীন সময়ের ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক দিকের পরিচয় পাওয়া যায়। স্বর্ণমুদ্রা থেকে যেমন তৎকালীন আর্থিক সমৃদ্ধির ইতিহাস পাওয়া যায়, তেমনি খাদযুক্ত মুদ্রা থেকে আর্থিক অবনতির সন্ধান পাওয়া যায়।

উপসংহার

সর্বোপরি বলা যায়, প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস রচনার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিভিন্ন লিপি ও বিভিন্ন মুদ্রার (Importance of Scripts and Coins in History Writing) ভূমিকা অনস্বীকার্য। কারণ অন্যান্য উপাদানের তুলনায় প্রদয় করা লিপি ও মুদ্রা থেকে সহজে তৎকালীন সময়ে সমাজজীবন, ধর্মীয় জীবন, রাজত্ব, অর্থনৈতিক পরিকাঠামো, বিনোদন সম্পর্কে সহজে আলোকপাত করা যায়।

তথ্যসূত্র (Sources)

  • Allaby, R. G. (2016) “Evolution .“Encyclopedia of Evolutionary Biology”. Ed. Kliman, Richard M. Oxford: Academic Press,19–24.
  • Boyd, Brian. (2017) “Archaeology and Human-Animal Relations: Thinking through Anthropocentrism.” Annual Review of Anthropology 46.1, 299–316. Print.
  • Online Sources

প্রশ্ন – এলাহাবাদ প্রশস্তি কার লেখা

উত্তর – এলাহাবাদ প্রশস্তি হরিষেনের লেখা। এই প্রশস্তি থেকে প্রথম গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের বিবরণ পাওয়া যায়।

প্রশ্ন – আইহোল প্রশস্তি কার লেখা

উত্তর – আইহোল প্রশস্তি চালুক্য রাজার দ্বিতীয় পুলকেশীর সভাকবি, রবিকীর্তি রচনা করেন। এই লিপি থেকে দ্বিতীয় পুলকেশীর রাজত্ব বিস্তার ও উত্তর ভারত অভিযান সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানা যায়।

প্রশ্ন – নাসিক প্রশস্তি কি

উত্তর – নাসিক প্রশস্তি হল সাতবাহন বংশের রাজা গৌতমীপুত্র সাতকর্ণীর রাজত্ব বিস্তার, সাতবাহন বংশের বিস্তার ও জনকল্যাণকামী বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে জানা যায়।

প্রশ্ন – নাসিক প্রশস্তি কে রচনা করেন

উত্তর – নাসিক প্রশস্তি কে রচনা করেন মা গৌতমী বালাশ্রী। নাসিক প্রশস্তি থেকে সাতবাহন বংশের রাজা গৌতমিপুত্র সাতকর্ণীর দ্বিগবিজয় ও অন্যান্য তথ্য পাওয়া যায়।

আরোও পোস্ট পড়ুন

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edubitan.in

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edubitan.in

একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, যিনি ডিগ্রি কলেজে দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পাঠদান করছেন এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য ও সার্বিক বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শিক্ষামূলক ডিজিটাল রিসোর্স ও প্রকাশনা তৈরিতেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। Edubitan -এর অনলাইন স্টোর store.edubitan.com এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষাবিষয়ক মানসম্পন্ন PDF বই (Educational eBooks) ও স্টাডি ম্যাটেরিয়াল প্রকাশ করেন, যা শিক্ষার্থী, গবেষক ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করে।

An experienced educator with more than ten years of teaching in a general degree college, dedicated to fostering academic excellence and holistic student growth. He is also the creator of structured digital learning resources and educational publications. Through Edubitan and its online store store.edubitan.com, he publishes and distributes curated PDF books (Educational eBooks) and study materials in education to support students, researchers, and competitive exam aspirants.

Leave a Comment

close
✅ Copied with source!