Share on WhatsApp Share on Telegram

রামায়ণের অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝার কবি প্রতিভার পরিচয় | Poetic Genius of Krittibas Ojha in Bengali Ramayana Translation

বাল্মিকী রচিত সংস্কৃত রামায়ণকে সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে বাংলায় রামায়নের অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝার কবি প্রতিভা (Poetic Genius of Krittibas Ojha in Bengali Ramayana Translation) ছিল অনন্য প্রকৃতির।

মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের যাঁর আবির্ভাবে রামায়ণ সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়, তিনি হলেন কৃত্তিবাস ওঝা (Krittibas Ojha)। সংস্কৃত বাল্মীকির রামায়ণকে তিনি কেবল অনুবাদ করেননি; বরং বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি ও লোকজ আবেগে নতুন করে রূপ দিয়েছেন। তাই রামায়ণের অনুবাদক হিসেবে তাঁর কবি প্রতিভা বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

Index

কৃত্তিবাস ওঝার জীবনী |Biography of Krittibas Ojha

কৃত্তিবাস ওঝা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান কবি ও রামায়ণের জনপ্রিয় বাংলা অনুবাদক। তিনি পঞ্চদশ শতকের কবি এবং সাধারণভাবে মনে করা হয় যে তিনি নদিয়া জেলার ফুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল বনমালী ওঝা। কৃত্তিবাস সংস্কৃত রামায়ণকে অবলম্বন করে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন, যা ‘কৃত্তিবাসী রামায়ণ’ নামে পরিচিত।

বাংলা ভাষায় রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের আবির্ভাবকাল

বাংলা ভাষায় রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হিসেবে সর্বাধিক স্বীকৃত নাম হল কৃত্তিবাস ওঝা (Krittibas Ojha)।কৃত্তিবাস ওঝার আবির্ভাব কাল হল – আনুমানিক পঞ্চদশ শতাব্দী (১৫শ শতক)। আবার কোন কোন গবেষকগণ মনে করেন – কৃত্তিবাস ওঝা ছিলেন সুলতান হুসেন শাহের শাসনামল (১৪৯৪–১৫১৯ খ্রি.)-এর সমসাময়িক।

কৃত্তিবাস ওঝার পরিচয়

  • পূর্ণ নাম : কৃত্তিবাস ওঝা
  • জন্মস্থান : বর্ধমান জেলার ফুলিয়া গ্রাম (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ)
  • পিতার নাম : বনমালী ওঝা
  • কাব্যকৃতি : শ্রী রামপাঁচালি বা কৃত্তিবাসী রামায়ণ
  • কবি প্রতিভা – তিনি সংস্কৃত বাল্মীকির রামায়ণ অবলম্বনে বাংলা অনুবাদ রচনা করেন। তাঁর রামায়ণ অনুবাদ হয়েও মৌলিক সৃষ্টির মর্যাদা লাভ করেছে

রামায়ণের অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝার কবি প্রতিভার পরিচয় | Poetic Genius of Krittibas Ojha in Bengali Ramayana Translation

মধ্যযুগের ভারতবর্ষে সংস্কৃত সাহিত্যের বিশেষ করে ধর্মগ্রন্থগুলি অনুবাদের ক্ষেত্রে শাক্ত পদাবলীতে কমলাকান্ত ভট্টাচার্যরামপ্রসাদ সেন, মহাভারত অনুবাদে কাশীরাম দাস ও ভাগবত অনুবাদে মালাধর বসুর মত রামায়ণ অনুবাদে কৃত্তিবাস ওঝা ছিলেন অন্যতম কৃতি কবি ও অনুবাদক।

বাল্মিকী রচিত সংস্কৃত ভাষায় মূল রামায়ণের বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিকদের মধ্যে কৃত্তিবাস ওঝা ছিলেন অনন্য প্রতিভার অধিকারী। কৃত্তিবাস ওঝার রচিত বাংলা ভাষার রামায়ণ সাধারণ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিল।

পঞ্চদশ শতাব্দীতে কৃত্তিবাস ওঝা মূল সংস্কৃত বাল্মীকি রামায়ণের প্রথম ভাবানুবাদ করেছিলেন। এর নাম হল শ্রীরামপাঁচালী। কৃত্তিবাস বাল্মীকি রামায়ণের আক্ষরিক অনুবাদ করেননি। মূল সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীকে একই রেখে নিজস্বতা সংযোজন করেছেন।

বাল্মীকি রামায়ণ ছাড়া কৃত্তিবাস ‘জৈমিনি ভারত’, ‘ অদ্ভুত রামায়ণ’, ‘দেবী ভাগবত’, ‘মার্কেন্ডীয় পুরাণ’, ‘পদ্মপুরাণ’ প্রভৃতি থেকে বাংলা রামায়নের রচনার জন্য কাহিনি সংগ্রহ করেছেন। এক্ষেত্রে বাল্মীকির রামায়ণ কোনো কোনো কাহিনি বা প্রসঙ্গ বর্জন করেছেন, আবার নিজস্ব কল্পনার মিশ্রণে নতুন অংশ সংযোজন ও সৃজন করেছেন।

কৃত্তিবাস ওঝার কবি প্রতিভার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল – সহজ, কথ্য ও লোকজ বাংলা ভাষার ব্যবহার। তিনি এমন ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন, যা সাধারণ মানুষ অনায়াসে বুঝতে পারে। এতে কাব্যটি পণ্ডিত সমাজের সীমা ছাড়িয়ে গ্রামীণ জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যথার্থই বলেছেন, – “এই বাংলা মহাকাব্যে কবি বাল্মীকির সময়ের সামাজিক আদর্শ পরিলক্ষিত হয় নাই, ইহার মধ্যে প্রাচীন বাঙালি সমাজই আপনাকে ব্যক্ত করিয়াছে।”

কবি কৃত্তিবাস ওঝা অনূদিত রামায়ণ গ্রন্থটির মৌলিকতা বিচার

বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অবলম্বনে কবি কৃত্তিবাস ওঝা তাঁর রচনা নির্মাণ করলেও, কৃত্তিবাসী রামায়ণ নিছক অনুবাদ নয়—এটি একটি স্বতন্ত্র, মৌলিক ও সৃজনশীল কাব্যরূপ। কবি কৃত্তিবাস ওঝা অনূদিত রামায়ণ গ্রন্থটির মৌলিকতা হল –

অনুবাদ হলেও অনুকরণ নয়

কৃত্তিবাস বাল্মীকির রামায়ণের কাহিনিকাঠামো গ্রহণ করেছেন, কিন্তু ভাষা, বর্ণনা, সংলাপ ও আবেগ প্রকাশে তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন। অনেক ক্ষেত্রে মূল কাহিনির ঘটনাবলি সংক্ষেপ, বিস্তার বা পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন রূপ পেয়েছে। ফলে এটি আক্ষরিক অনুবাদ নয়, বরং ভাবানুবাদ ও রূপান্তরিত সৃষ্টি।

রসগত পরিবর্তন

কৃত্তিবাস বাংলাতে রামায়ণ লিখেছেন। স্থানভেদে সাহিত্যের ভাব পরিবর্তন সাধিত হয়। আমরা জানি বাংলাদেশ শ্যামল-সবুজ আর্দ্র জলবায়ু। তাই কৃত্তিবাসের চরিত্রের ভাবগত দিক থেকে কোমল, নমনীয় প্রকৃতির। বাল্মীকি রামায়ণে ধীররসের প্রাধান্য। অপরদিকে কৃত্তিবাসী রামায়নে বীর নয়, শান্ত ও করুণরসই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

ভাষা ও কাব্যরীতির স্বকীয়তা

মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষায় রচিত কৃত্তিবাসী রামায়ণ সহজ, প্রাণবন্ত ও শ্রুতিমধুর। পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দের দক্ষ ব্যবহার এবং অলংকার প্রয়োগ গ্রন্থটিকে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক গুণে উজ্জ্বল করেছে।

চরিত্রচিত্রণে নতুনত্ব

কৃত্তিবাসী রামায়ণে রাম দেবত্বের চেয়ে মানবিক রূপে প্রকাশিত। সীতা হয়ে ওঠেন আদর্শ বাঙালি নারীর প্রতিচ্ছবি, লক্ষ্মণ ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। রাবণ কখনো কখনো মহিমান্বিত বীর রূপে চিত্রিত। এই মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বাল্মীকির রামায়ণের তুলনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নতুন সংযোজন ও ব্যতিক্রমী ঘটনা

কৃত্তিবাস ওঝা বাল্মীকির রামায়ণ কোনো কোনো কাহিনি বা প্রসঙ্গ বর্জন করেছেন, আবার নিজস্ব কল্পনার মিশ্রণে নতুন অংশ সংযোজন ও সৃজন করেছেন। অর্থাৎ কৃত্তিবাস কিছু অতিরিক্ত কাহিনি ও লোকপ্রচলিত উপাখ্যান সংযোজন করেছেন, যা বাল্মীকির রামায়ণে অনুপস্থিত। এসব সংযোজন কাব্যের বর্ণনাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং মৌলিকতার দাবি করেছে।

কৃত্তিবাসী রামায়ণের জনপ্রিয়তার কারণ কি?

কৃত্তিবাসী রামায়ণ জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণগুলি হল –

  • সহজ, প্রাঞ্জল ও শ্রুতিমধুর ভাষা, যা সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারে।
  • এই কাব্যে বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠান ও সামাজিক বিশ্বাস স্বাভাবিকভাবে যুক্ত হয়েছে।
  • রাম, সীতা ও লক্ষ্মণকে দেবতার চেয়ে মানুষের রূপে উপস্থাপন করায় পাঠকের সঙ্গে গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
  • কাহিনির মধ্যে আবেগ, দুঃখ, প্রেম ও পারিবারিক টান স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
  • কৃত্তিবাস সংস্কৃত রামায়ণকে হুবহু অনুবাদ না করে স্বাধীনভাবে রূপান্তর করেছেন। ফলে কাব্যটি বাংলা সমাজের জীবনবোধের সঙ্গে মানানসই হয়েছে।
  • পুঁথিপাঠ ও কীর্তনের মাধ্যমে এই রামায়ণ গ্রামে-গঞ্জে প্রচারিত হয়। শ্রুতিযোগ্যতা এর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে।
  • ধর্মীয় ভাবের সঙ্গে মানবিক অনুভূতির মিশ্রণ পাঠককে আকৃষ্ট করে। এই সব কারণেই কৃত্তিবাসী রামায়ণ দীর্ঘকাল ধরে বাংলায় সর্বাধিক জনপ্রিয়।

উপসংহার | Analysis

পরিশেষে বলা যায়, কৃত্তিবাস ওঝার রচিত রামায়ণ বাঙালি জনমানষে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল। তিনি বাল্মীকির রামায়ণকে বাঙালির জীবনচেতনার সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। তাই আজও কৃত্তিবাস ওঝার রচিত বাংলা রামায়ণ বাঙালির ঘরে ঘরে মর্যাদা সহিত স্থান দখল করে আছে।

তথ্যসূত্র | Sources

  • বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস (৩-৫ খন্ড)- সুকুমার সেন
  • বাংলা গদ্য সাহিত্যের ইতিহাস- সজনীকান্ত দাস
  • বাংলা সাহিত্যে গদ্য- সুকুমার সেন
  • বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (৬-৯)- অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  • বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা (৩-৪)- ভূদেব চৌধুরী
  • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – প্রাচীন ও মধ্যযুগ – ডক্টর শ্রীমন্তকুমার জানা – ওরিয়েন্টাল বুক কম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড।
  • Einsohn, A., & Schwartz, M. (2019). The copyeditor’s handbook: A guide for book publishing and corporate communications (4th ed.). University of California Press.
  • Butcher, J., Drake, C., & Leach, M. (2016). Butcher’s copy-editing: The Cambridge handbook for editors, copy-editors and proofreaders (4th ed.). Cambridge University Press.
  • Chicago Manual of Style. (2017). The Chicago manual of style (17th ed.). University of Chicago Press.
  • Ritter, R. M. (2015). The Oxford guide to style (New Hart’s rules) (2nd ed.). Oxford University Press.
  • Luey, B. (2010). Handbook for academic authors (5th ed.). Cambridge University Press.
  • Internet sources

কৃত্তিবাস ওঝা প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন – কৃত্তিবাস ওঝা কে ছিলেন?

উত্তর – কৃত্তিবাস ওঝা ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট প্রতিভাবান কবি। তিনি বাল্মিকী রচিত সংস্কৃত রামায়ণকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন। অর্থাৎ কৃত্তিবাস ওঝা ছিলেন বাংলার রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।

প্রশ্ন – বাংলা রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে এবং তার কাব্যের নাম কি?

উত্তর – বাংলা রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কবি কৃত্তিবাস ওঝা। তাঁর রচিত বাংলা রামায়ণ গ্রন্থটির নাম ‘কৃত্তিবাসী রামায়ণ’ বা ‘শ্রীরামপাঁচালী’

প্রশ্ন – কৃত্তিবাস ওঝার পিতা ও মাতার নাম কি?

উত্তর – কবি কৃত্তিবাস ওঝার পিতার নাম হল – বংশীধর ওঝা ও মাতার নাম হল – শারদা দেবী

প্রশ্ন – রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে?

উত্তর – রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হলেন – কৃত্তিবাস ওঝা।

প্রশ্ন – কৃত্তিবাস ওঝা কোন শতকের কবি

উত্তর – কৃত্তিবাস ওঝা আনুমানিক পঞ্চদশ শতাব্দী (১৫শ শতক)-র কবি। আবার কোন কোন গবেষকগণ মনে করেন – কৃত্তিবাস ওঝা ছিলেন সুলতান হুসেন শাহের শাসনামল (১৪৯৪–১৫১৯ খ্রি.)-এর সমসাময়িক।

প্রশ্ন – কৃত্তিবাসী রামায়ণের প্রকৃত নাম কী?

উত্তর – কৃত্তিবাসী রামায়ণের প্রকৃত নাম হল ‘শ্রীরামপাঁচালী’।

Latest Articles

রামায়ণের অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝার কবি প্রতিভার পরিচয় | Poetic Genius of Krittibas Ojha in Bengali Ramayana Translation সম্পূর্ণ পোস্ট পরাড় জন্য ধন্যবাদ।

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edubitan.in

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edubitan.in

একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, যিনি ডিগ্রি কলেজে দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পাঠদান করছেন এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য ও সার্বিক বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শিক্ষামূলক ডিজিটাল রিসোর্স ও প্রকাশনা তৈরিতেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। Edubitan -এর অনলাইন স্টোর store.edubitan.com এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষাবিষয়ক মানসম্পন্ন PDF বই (Educational eBooks) ও স্টাডি ম্যাটেরিয়াল প্রকাশ করেন, যা শিক্ষার্থী, গবেষক ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করে।

An experienced educator with more than ten years of teaching in a general degree college, dedicated to fostering academic excellence and holistic student growth. He is also the creator of structured digital learning resources and educational publications. Through Edubitan and its online store store.edubitan.com, he publishes and distributes curated PDF books (Educational eBooks) and study materials in education to support students, researchers, and competitive exam aspirants.

1 thought on “রামায়ণের অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝার কবি প্রতিভার পরিচয় | Poetic Genius of Krittibas Ojha in Bengali Ramayana Translation”

Leave a Comment

close
✅ Copied with source!