বাংলা সাহিত্যে বড় চন্ডীদাসের রাধা কৃষ্ণের ঐশ্বরিক প্রেম কাহিনী নিয়ে রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বিষয়বস্তু ও সাহিত্যিক মূল্য (Subject Matter and Literary Value of Shrikrishnakirtan) অসামান্য।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বিষয়বস্তু ও সাহিত্যিক মূল্য | Subject Matter and Literary Value of Shrikrishnakirtan
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটির রচয়িতা, কাব্যটির আবিষ্কারক, আবিষ্কারকাল, প্রকাশকাল ও প্রকাশনা সংস্থার নাম, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বিষয়বস্তু ও সাহিত্যিক মূল্য এখানে আলোচনা করা হলো।
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটির রচয়িতা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (Shrikrishnakirtan) কাব্যের রচয়িতা হলেন বড়ু চণ্ডীদাস।
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটির আবিষ্কারক, আবিষ্কারকাল
১৩১৬ বঙ্গাব্দে শ্রীযুক্ত বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে শ্রীনিবাস আচার্য মহাপ্রভুর দৌহিত্র বংশধর দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়াল ঘরের মাচার উপর ধামাভরা একরাশ পুঁথির মধ্যে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যগ্রন্থের পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটির প্রকাশকাল ও প্রকাশনা সংস্থার নাম
১৩২৩ বঙ্গাব্দে শ্রীযুক্ত বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ -এর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্যিক পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুঁথিটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়।
পুঁথিটির প্রথম, মধ্য ও শেষের দিকের কয়েকটি পৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি। ফলে কাব্যের নাম ও কবি পরিচিতি সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকে গেছে। বিষয়বস্তু কৃষ্ণলীলা সম্পর্কিত বলে আবিষ্কারক শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে কাব্যটি প্রকাশ করেন।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বিষয়বস্তু | Subject Matter of Shrikrishnakirtan
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু হল রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা।
চর্যাগীতি পদাবলী বাংলা ভাষার আদিমতম নিদর্শন হলেও বড়ু চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে বাংলার বিশিষ্ট বাগ্রীতি বা বাক্যরীতি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাই চর্যাগীতির পর বাংলা ভাষার যে বিবর্তন ঘটেছে তা এই শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের কবি-পরিচয় সংক্রান্ত বিতর্ক
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কবি পরিচয় সংক্রান্ত যে বিতর্ক তা সাহিত্যিকগণ একটি সমাধান সূত্র রচনা করেছেন। সাধারণভাবে চন্ডীদাস মোট চারজন। দুজন চন্ডিদাস চৈতন্য পূর্ববর্তী এবং বাকি দুজন চন্ডিদাস চৈতন্য পরবর্তী।
প্রথম দুজন হলেন – বড়ু চণ্ডীদাস ও পদকর্তা চন্ডীদাস। পরবর্তী দুজন চন্ডীদাস হলেন পদাবলী চন্ডীদাস ও দীন চন্ডীদাস।
এই চারজন চন্ডিদাসের রচনা ও চরিত্র গুলো থেকে আলাদাভাবে কবি পরিচয় সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটায়। যথা –
1. বড়ু চণ্ডীদাস – রাধা ও কৃষ্ণ চরিত্র।
2. পদকর্তা চন্ডীদাস – পদকর্তা চন্ডীদাস চৈতন্য পূর্ব যুগের। তিনি সম্ভবত চৈতন্য মহাপ্রভুর অনেক পদাবলীর পদ রচনা করেন।
3. পদাবলী চন্ডীদাস – পদাবলী চন্ডীদাস সম্পর্কে অনেক কিংবদন্তী আছে। পদাবলী চন্ডীদাসের সাধনসঙ্গিনী ছিলেন রামি নামে এক রজকিনী। তাই তিনি তাঁর নিয়ে কাব্য রচনা করেন।
4. দীন চন্ডীদাস – এই চন্ডীদাস হলেন চৈতন্য পরবর্তী কালের একজন দ্বিতীয় শ্রেণীর নিরস পদাবলীর রচয়িতা।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ডগুলির নাম
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (Shrikrishnakirtan) কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে (Khandas / Sections) বিভক্ত। নিচে খণ্ডগুলির নাম ক্রমানুসারে উল্লেখ করা হল –
1. জন্মখণ্ড – কৃষ্ণ জন্মের ভাগবতী ঘটনা নিবেশিত।
2. তাম্বুল খন্ড – রূপবতী রাধার রূপলাবণ্যে শ্রীকৃষ্ণ বিমুগ্ধ ও আত্মহারা।
3. দানখণ্ড – কৃষ্ণ দান আদায়ের অজুহাতে রাধার সঙ্গে প্রেমালাপ করেন। অর্থাৎ রাধা মথুরার হাটে দধি বিক্রি করতে গেলে শ্রীকৃষ্ণ হাটের কড়ি চেয়ে বসেন। কর দিতে না পারায় রাধার রূপ দাবি করে। অনেক তর্ক বিতর্কের পর রাধা নিরুপায় হয়ে শ্রীকৃষ্ণের নিকট নিজেকে সমর্পণ করেন। এটি কাব্যের অন্যতম জনপ্রিয় অংশ।
4. নৌকাখণ্ড – নৌকাভ্রমণের সময় কৃষ্ণের কৌতুক ও প্রেমচাতুর্য প্রকাশ পায়।
5. ভারখণ্ড – রাধা–কৃষ্ণের গোপন সাক্ষাৎ ও আবেগঘন কথোপকথনের বর্ণনা।
6. ছত্রখন্ড -মথুরার পথে রৌদ্রের উত্তাপ থেকে রাধা কে রক্ষা করার জন্য কৃষ্ণ রাধার মাথায় ছাতা ধরেন।
7. বৃন্দাবন খন্ড – কৃষ্ণ রাধার সঙ্গে মিলনের জন্য বৃন্দাবনে এক মনোরম পুষ্প কুঞ্জ রচনা করেন। এই খন্ডে ভাগবতের রাসলীলার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
8. বস্ত্রহরণ খন্ড – এই খন্ডে রাধা ও সখিরা বস্ত্র রেখে যমুনা স্নান করতে গেলে, কৃষ্ণ সেই বস্ত্রগুলি চুরি করে লীলা করেন।
9. কালীয়দমন খন্ড – এই খন্ডে কালিদহে কালীয় নাগ দমন এর বর্ণনা রয়েছে।
10. হার খন্ড – এই খন্ডে কৃষ্ণ রাধার হার চুরি করেন। রাধার কাছে সমস্ত বৃত্তান্ত শুনে মা যশোদা এই প্রকৃতির জন্য কৃষ্ণকে তিরস্কার করেন।
11. বাণ খন্ড – কৃষ্ণ রাধার প্রতি প্রচন্ড ক্রুদ্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতে মদন বানে কৃষ্ণ রাধাকে মূর্চ্ছিত করেন। বড়াই কৃষ্ণকে তিরস্কার করলে। কৃষ্ণ রাধা কে বাঁচিয়ে আত্মগোপন করেন।
12. বাঁশী খণ্ড – কৃষ্ণের বাঁশির সুরে রাধার আকর্ষণ ও মানসিক টান ফুটে ওঠে। এই খন্ডে বড়াই এর নির্দেশে রাধা ঘুমন্ত কৃষ্ণের বাঁশি চুরি করেন। অনেক তর্কবিতর্কের পর রাধা কৃষ্ণের বাঁশি ফিরিয়ে দেন।
13. রাধা বিরহ খন্ড – এইখন্ড কৃষ্ণ রাধার ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন। অন্যদিকে রাধা কৃষ্ণের জন্য অর্ধ উদ্মাদ। বড়াইয়ের চেষ্টায় অনেক অনুসন্ধানের পর কৃষ্ণের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। পরিশেষে বৃন্দাবনের রাধাকৃষ্ণের মিলন ঘটে।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কাব্যমূল্য আলোচনা | Literary Value of Shrikrishnakirtan
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (Shrikrishnakirtan) কাব্যটি রাধা কৃষ্ণের প্রণয় কাহিনী নিয়ে বাংলা ভাষায় রচিত মধ্যযুগের সর্বপ্রথম কাহিনী কাব্য। তাই পরবর্তীকালে রাধাকৃষ্ণের লীলা ও অন্যান্য কাহিনী নিয়ে যে বিশাল বৈষ্ণব সাহিত্য গড়ে উঠেছে তারই পথিকৃৎ ছিলেন বড়ু চণ্ডীদাস।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মূল উৎস হল পৌরাণিক ভাগবত। তবে সমকালীন লৌকিক জীবনধারা ও সমাজ চিত্র এই কাহিনীকে পূর্ণতা দান করেছে। লেখকের কল্পনা শক্তি ও জীবন বোধের পরিচয় পাওয়া যায় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে। তাই এই কাব্যে রাধা কৃষ্ণের সৌন্দর্য, আধ্যাত্মিক প্রেম কাহিনী, বিরহ বেদনা তথা অন্যান্য মনোভাবের বিভিন্ন দিক কবিশক্তির মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মূলত তিনটি প্রধান চরিত্র পরিলক্ষিত হয়, যথা – রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই। এই তিনটি চরিত্রের উপস্থিতি ও সংলাপ কাহিনীর অগ্রগতি ঘটিয়েছে। তাই শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটির কাহিনী শিল্প বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে।
বিশিষ্ট সাহিত্যিক ডক্টর শশীর ভূষণ দাশগুপ্ত মহাশয় রাধা কৃষ্ণের সংলাপের মধ্যে বাংলা নাটকের বীজ লক্ষ্য করেছেন। ডক্টর দাশগুপ্তের অভিমত অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের এই নিচের অংশটি পড়লে তা যথার্থ মনে হবে –
কাহারো বউ তু কাহারো রাণী।
কেহ্নে যমুনাতে তোলসী পানী।
(কৃষ্ণের উক্তি)
বড়ার বৌ মো বড়ার ঝি।
আগ্নে পানী তুলি তোত্মাত কি।।
(রাধার উক্তি)
তাই অনেক সাহিত্যিক মনে করেন বাংলা নাটকের সূত্রপাত এই কাব্যগ্রন্থটি থেকে। তাই এদিক থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কাব্যমূল্য সমকালীন প্রাসঙ্গিকতার দাবি রাখে।
বিষয়বস্তুর দিক থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পৌরাণিক ও লৌকিক উপাদানের মিশ্র ফলশ্রুতি। অর্থাৎ এই কাব্য একই সঙ্গে লৌকিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সাজুজ্য বজায় রেখেছে আবার হিন্দু ধর্মের পৌরাণিক দিকের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছে।
আবার হিন্দু ধর্মে স্বর্গ ও মর্তের মধ্যে সেতু বন্ধ রচিত হয়েছে এই কাব্যে। পৌরাণিক দেবদেবীকে মানবী চরিত্র দানের মাধ্যমে কবি সমাজ জীবনের সাথে মানব জীবনকে সংযুক্ত করেছে। অর্থাৎ রাধার সৃষ্টিতে চন্ডীদাস অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছে। আবার রাধা কৃষ্ণের প্রণয় ভোগতৃষ্ণা ও দেহ কামনার প্রবল হলেও চন্ডীদাস রাধাকে বংশী ও বিরহ খন্ডে কামনা-বাসনের ঊর্ধ্বে তুলে দিয়েছে।
বিরহ খন্ডে রাধার বিরহর যে হৃদয়ের পরিচয় পাওয়া যায় সেখানে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রাধা ও বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যের চন্ডিদাসের রাধার মধ্যে কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। তাই বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক প্রথমনাথ বিশি মহাশয় বলেছেন – শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য যেখানে শেষ সেখান থেকে বৈষ্ণব পদাবলীর রাধার যাত্রা শুরু হয়েছে।
সুতরাং শব্দ প্রয়োগ, ছন্দ সৃষ্টি, অলংকার প্রভৃতিতে কবি চন্ডীদাসের অভাবনীয় কৃতিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। বাংলা ভাষার স্বাভাবিক উচ্চারণ সর্বপ্রথম শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে সুস্পষ্টভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই কাব্যগ্রন্থে পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দপদে শিল্প প্রতিভার স্বাক্ষর পাওয়া যায়।
উপসংহার | Conclusion
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (Shrikrishnakirtan) কাব্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সৃষ্টি। এর বিষয়বস্তু মানবিক প্রেমে ভরপুর, আর সাহিত্যিক মূল্য অসাধারণ। এটি কেবল ধর্মীয় কাব্য নয়—এটি প্রেম ও জীবনের কাব্য। শুধু তাই নয় বিষয়বস্তুর দিক থেকে কবি জয়দেবের মত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রণয় কাহিনীর বাংলা কাব্যকর্তা হলেন বড়ু চন্ডীদাস। তাই বাংলা সাহিত্যে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি বিশিষ্টতার মূল্য বহন করছে।
তথ্যসূত্র | Sources
- বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস (৩-৫ খন্ড)- সুকুমার সেন
- বাংলা গদ্য সাহিত্যের ইতিহাস- সজনীকান্ত দাস
- বাংলা সাহিত্যে গদ্য- সুকুমার সেন
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (৬-৯)- অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
- বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা (৩-৪)- ভূদেব চৌধুরী
- আধুনিক বাংলা কাব্য- তারাপদ মুখোপাধ্যায়
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – প্রাচীন ও মধ্যযুগ – ডক্টর শ্রীমন্তকুমার জানা – ওরিয়েন্টাল বুক কম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড।
- Einsohn, A., & Schwartz, M. (2019). The copyeditor’s handbook: A guide for book publishing and corporate communications (4th ed.). University of California Press.
- Butcher, J., Drake, C., & Leach, M. (2016). Butcher’s copy-editing: The Cambridge handbook for editors, copy-editors and proofreaders (4th ed.). Cambridge University Press.
- Chicago Manual of Style. (2017). The Chicago manual of style (17th ed.). University of Chicago Press.
- Ritter, R. M. (2015). The Oxford guide to style (New Hart’s rules) (2nd ed.). Oxford University Press.
- Luey, B. (2010). Handbook for academic authors (5th ed.). Cambridge University Press.
- Internet sources
প্রশ্ন – শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুঁথি কে, কবে, কোথা থেকে আবিষ্কার করেন?
উত্তর – শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যগ্রন্থের পুঁথিটি ১৩১৬ বঙ্গাব্দে শ্রীযুক্ত বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে শ্রীনিবাস আচার্য মহাপ্রভুর দৌহিত্র বংশধর দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়াল ঘরের মাচার উপর ধামাভরা একরাশ পুঁথির মধ্যে আবিষ্কার করেন।
প্রশ্ন – শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ গ্রন্থে বাংলা ভাষার কোন স্তরের নিদর্শন পাওয়া যায়?
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থে বাংলা ভাষার বিশিষ্ট বাগ্রীতি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। চর্যাগীতির পর বাংলা ভাষার যে বিবর্তন ঘটেছে দীর্ঘকালের ব্যবধানে তার সুস্পষ্ট পরিচয় রয়েছে বড়ু চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে।
প্রশ্ন – শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের ভূমিকা কে লিখেছিলেন?
উত্তর – ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের ভূমিকা লিখেছিলেন বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ (Basantaranjan Ray Vidvadballabh)। তিনিই গ্রন্থটি আবিষ্কার ও সম্পাদনা করে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি তিনি প্রথম প্রকাশ করেন (১৯১৬ খ্রি.) বাংলা ১৩২৩ বঙ্গাব্দ।
প্রশ্ন – শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্রের নাম লেখো।
উত্তর – ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র হল – শ্রীকৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (বা বড়ু / বড়াই)।
প্রশ্ন – শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কার লেখা?
উত্তর – ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা হলেন বড়ু চণ্ডীদাস (Baru Chandidas)।
Latest Articles
- শাক্ত পদাবলীতে রামপ্রসাদ সেনের কৃতিত্ব | Ramprasad Sen Achievements
- শাক্ত পদাবলীতে কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের কৃতিত্ব | Shakta Padavali Kamalakanta Bhattacharya
- মহাভারতের অনুবাদক কাশীরাম দাসের কবি প্রতিভার মূল্যায়ন | Kashiram Das the Poetic Genius of Mahabharata
- রামায়ণের অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝার কবি প্রতিভার পরিচয় | Poetic Genius of Krittibas Ojha in Bengali Ramayana Translation
- ভাগবত অনুবাদে মালাধর বসুর কবি কৃতিত্ব | Maladhar Basu Bhagavata Translation Poetic Excellence
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বিষয়বস্তু ও সাহিত্যিক মূল্য | Subject Matter and Literary Value of Shrikrishnakirtan
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বিষয়বস্তু ও সাহিত্যিক মূল্য | Subject Matter and Literary Value of Shrikrishnakirtan সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।





